হয় সারেন্ডার করো, নাহয় দেশ ছাড়ো : ইয়াবাবাজদের উদ্দেশ্যে এসপি মাসুদ

স্টাফ রিপোর্টার :: ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজেরা রাষ্ট্রের প্রদত্ত সুযোগ নিয়ে আত্মসমর্পণ করো, না হয় দেশ ছাড়ো, তা নাহলে ভয়াবহ কঠিন আইনের শেষ পরিণতির জন্য তৈরী থাকো। জনপ্রতিনিধি, সর্বস্তরের মানুষ যদি ইয়াবাবাজদের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করে তাহলে সহজেই ইয়াবানগরী টেকনাফকে ইয়াবামুক্ত ও দুর্নামমুক্ত করা সম্ভব। যদি ইয়াবাবাজীর সাথে কোন পুলিশ সদস্য, জনপ্রতিনিধি জড়িত থাকে, তাহলে সঠিক প্রমাণ সাপেক্ষে তাদেরকেও অপরাধীর মতো কোমরে রশি বেঁধে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ইয়াবাবাজীর সাথে ন্যূনতম কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকে কোন অবস্থাতেই বিন্দু পপরিমাণ ছাড় দেয়া হবেনা। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে মাদকবিরোধী চলমান সাড়াশি অভিযানকে আরো গতিশীল ও বেগবান করা হবে। নতুন করে কেউ ইয়াবাবাজী ও হুন্ডিবাজী করার অপচেষ্টা করলে তাদের ব্যাপারেও রাষ্ট্র কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করবে। তাদের বিষয়েও পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া ইয়াবাবাজদের জন্য রাষ্ট্রের প্রদত্ত একটা সুবর্ণ সুযোগ। এ সুযোগ যারা কাজে লাগাবেনা তারা বোকারস্বর্গে বসবাস করছে। পৃথিবীর কোন ধর্মেই মাদকবাজীকে সমর্থন করেনা, বরং প্রায় সকল ধর্মেই মাদককে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্ষ্যং বাজার চত্বরে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বিপিএম-বার এর সভাপতিত্বে মাদক, জঙ্গী, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বিরোধী এক সমাবেশে ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজদের মূর্তিমান আতংক হিসাবে পরিচিত কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে একথা বলেন। সমাবেশের বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মুহাম্মদ ইকবাল হোসাইন আল্লাহর নামে শপথ করে বলেন-মাদক নির্মুলের মিশনে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিয়ে কক্সবাজার এসেছি। এ অভিযান শতভাগ সফল করতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত ইনশাল্লাহ। কাউকে এ অভিযান থেকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। দেশ, রাষ্ট্র ও সমাজের শত্রু ইয়াবাবাজ, হুন্ডিবাজদের নির্মূল করেই এ সাড়াশি অভিযানের ইতি টানা হবে ইনশাল্লাহ। সোমবার ৮ এপ্রিল বিকেলে ইউএনডিপি’র কমিউনিটি রিকভারি এন্ড রেসিলেন্স প্রজেক্ট (সিটুআরপি) এর সহায়তায় কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও হোয়াক্ষ্যং কমিউনিটি পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত আরটিভি’র টেকনাফ প্রতিনিধি নুরতাজুল মোস্তফা’র সন্ঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন-টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এ.বি.এম.এস দোহা, ইউএনডিপি’র প্রতিনিধি মোঃ খালেদ হোসেন, টেকনাফ উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি নুরুল হুদা, হোয়াক্ষ্যং ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি হারুনর রশিদ সিকদার, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, হোয়াক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমেদ আনোয়ারী, নায়বাজার উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ। সমাবেশের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন-হোয়াইক্ষ্যং কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নুরুল আমিন, ত্রিপিটক পাঠ করেন-বিমল বড়ুয়া ও গীতা পাঠ করেন-মনিশংকর নাথ।

সমাবেশে সভাপতি’র বক্তব্যে ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজদের সাক্ষাত ‘আজরাইল’ হিসাবে খ্যাতি পাওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বিপিএম-বার বলেন-পুরো টেকনাফ উপজেলায় মাদক বিরোধী সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধি নিয়ে পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম ও মহল্লায় ৭০ টি কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫ টি কমিটি গঠন করে কমিটির সক্রিয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কমিটি গুলোর সাথে পুলিশের একটি টিম ২৪ ঘন্টা দায়িত্বপালন করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ষভিযানের পাশাপাশি সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণসচেতনতা গড়ে তোলা হচ্ছে। তাই আইনের জালে ইয়াবাবাজ ও হুন্ডিবাজদের পড়তেই হবে। কোন ইয়াবাবাজকে আইনি প্রক্রিয়া থেকে রেহায় দেয়া হবেনা। সমাবেশে শিক্ষক, গণমাধ্যম কর্মী, ব্যবসায়ী, আলেম ওলামা, জনপ্রতিনিধি, পেশাজীবী সহ সর্বস্তরের লোকের সমাগম ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*