শাহ আমানতে বিমান ওঠানামা বন্ধ

1463810345স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :
ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার সকালে এক জরুরি বৈঠক শেষে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশন বিভাগের ম্যানেজার উইং কমান্ডার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, জরুরী বৈঠকের সিদ্ধান্তঅনুযায়ী সকাল সাড়ে দশটা থেকে ফ্লাইট উঠা নামাসহ বিমানবন্দরের সব অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেটি আজকের দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।’

ঘূর্ণিঝড়টি ঘণীভূত হয়ে পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার সকাল থেকে দুপুর নাগাদ বরিশাল-চট্রগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৬২ কি.মি. যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৮৮ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় প্রচণ্ড বাতাস শুরু হয়েছে। শনিবার ভোর থেকে চট্টগ্রামে মাঝারি বৃষ্টি ঝরছে।

ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা সম্পর্কে আবহাওয়া অফিস জানায়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ খুব দ্রুত বেগে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। এ কারণে পূর্বে জারি করা এলার্ট-টু নামিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ শুক্রবার বিকেল থেকে এলার্ট-থ্রি জারি করেছে। বন্দরের সব ধরনের পণ্য ওঠানামা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া বন্দরের সব ধরনের যন্ত্রপাতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (২০ মে) চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন) জাফর আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘বন্দরের জরুরি সভায় ঘূর্ণিঝড় “রোয়ানু” মোকাবেলা কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থানরত সকল লাইটারেজ জাহাজকে বাংলাবাজার জেটির নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বন্দরে অবস্থানরত সকল পণ্যবাহী জাহাজকে ২ ঘণ্টার নোটিশে বঙ্গোপসাগরের বর্হিনোঙ্গরে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে। সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করায় বন্দরে  এলার্ট-২ এর পরিবর্তে এলার্ট-৩ জারি করা হয়েছে।’

এদিকে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় চট্টগ্রামে ৪৭৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোজবাহ উদ্দিন।  দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চট্টগ্রামে ২৪২টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সাথে ঘূর্ণীঝড় পরবর্তী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধস ঠেকাতে ইতোমধ্যে মাইকিং শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*