উখিয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বেকায়দায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপি

K-H-Manik-Pic-15-05-2016-1_1উখিয়ায় আগামী ৪ জুনের ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা। উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে রাজাপালং ইউনিয়ন ছাড়া বাকী ৪ টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে ময়দানে ব্যাপক গণ সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকাতে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতারা হিমশিম খাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার প্রত্যাহারের শেষ দিনে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রাহামত উল্লাহ ও উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন থেকে ১৫ জন মেম্বার প্রার্থী, ৪ জন সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অন্য কোন বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন নিই।

রত্নাপালং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী নৌকা প্রতীকের নুরুল হুদা দলীয় নেতা কর্মীদের তোপের মূখে পড়ে তেমন একটা সুবিধা জনক অবস্থানে নেই। বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল কবির চৌধুরী হঠাৎ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রাথী হিসাবে অনড় রয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্বাস উদ্দিন অপর দিকে জেলা বিএনপির সদস্য স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দানবীর খাইরুল আলম চৌধুরী ঝঁড় বৃষ্টি উপক্ষো করে ইউনিয়নের সর্বত্রে প্রচার প্রচারনা ও সাধারন ভোটারদের ব্যাপক জন সমর্থনের মধ্যে দিয়ে সে বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সাধারন ভোটারদের জনশ্রুত দেখে অন্য প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে চেয়াম্যান প্রার্থী খাইরুল আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে ক্ষান্ত না হয়ে ফের দল থেকে বহিস্কারের হুমকি ধ্বমকি দিয়ে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে। এলাকার সাধারন ভোটাররা প্রতিবেদককে অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান নুরুল কবির চৌধুরীর বিগত ৫ বছরের শ্বসনমলে এলাকার উন্নয়নের নামে আশার বাণী ছাড়া আমরা কিছুই দেখতে পায় নিই। তাই আমরা এবার আমরা খাইরুল আমিন চৌধুরীকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে তার বলিষ্ট নেতৃত্বের মাধ্যমে রতœাপালং ইউনিয়নের অবহেলিত গ্রামীন অবকাঠমো উন্নয়নের রূপ দেখতে চাই। চেয়ারম্যান প্রার্থী খাইরুল আলম চৌধুরীর কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল কবির চৌধুরী বিগত ৫ বছরে এলাকার উন্নয়নের নামে সরকারী অর্থ হরিলুট ছাড়া আর কিছুই করে নাই। তিনি আরো বলেন, রত্নাপালং নতুন ইউনিয়ন পরিষদ উদ্বোধনকালে চেয়ারম্যান নুরুল কবির চৌধুরী উন্নয়নের যে স্মারক বইটি বের করেছেন তা পড়ে দেখলেই বুঝা যাবে একটি সড়ককে ওই বইতে বার বার দেখিয়ে এলাকার সাধারন জনগনের কাছে উন্নয়নের নামে প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা আতœসাত করার দৃশ্য। শুধু তাই নয় , ওই বইতে এমন কত গুলো সড়কের নাম উল্লেখ করা হয়েছে , সেই সড়কে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনিই। এ সব দৃশ্য ওই উন্নয়নের স্বারক বইতে দেখে ও এলাকার সাধারন ভোটারদের জন সমর্থনে আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে কোন অনিয়ম দূর্ণীতি সহ্য করা হবে না। শুধু তাই নয়, ইউনিয়নের গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারী অর্থ সঠিক ভাবে বন্ঠন করে গ্রামীন অবকাঠমো উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশা পাশি, এলাকার শান্তি শৃংখলা রক্ষা, সুশ্বাসন প্রতিষ্টা ও মাদক মুক্ত সমাজ গঠনকল্পে আমার ভুমিকা থাকবে উল্লেখ যোগ্য এটাই হচ্ছে আমার প্রতিশ্রুতি। রাজাপালং ইউনিয়নের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম নুরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে নৌকা প্রতীক নিয়ে ঝঁড় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে প্রচারনার কাজে এগিয়ে রয়েছে। অপর দিকে একই ইউনিয়নে সাবেক সংসদ সদস্য শাহ জাহান চৌধুরীর ছেলে তারেক মাহমুদ চৌধুরী রাজিব ধানের শীষ নিয়ে লড়ছে। পালংখালী ইউনিয়নেরআওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আলী আহম্মদ বলেন, দল থেকে মনোনয়ন না দিলেও আমি মাঠে সাধারন ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাচ্ছি। একই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী সাহাদাৎ হোসেন জুয়েল কোনঠাসা হয়ে পড়েছে ভোটের ময়দানে। পালংখালী ঘুরে দেখা গেছে, তার কোন প্রচারনাও নেই। এ ইউনিয়নে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হেলাল উদ্দিন দলীয় মনোনয়ন পেলেও তার তেমন কোন তৎপরতা নেই। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম, গফুর উদ্দিন চৌধুরী বিগত ৫ বছরে চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে তার ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন করায় ভোটারেরা ধানের শীষের প্রতীকের প্রতি তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছেনা। হলদিয়াপালং ইউনিয়নে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস, এম শামশুল আলম বাবুল, আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মন্ত্রী পরিষদ সচিবের ছোট ভাই শাহ আলম। একই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল হক আমিন বলেন, তাকে দল থেকে বহিস্কার করলেও ঝড় তোফান মাথায় নিয়ে নির্বাচনী কাজ চালিয়ে যাব। জালিয়াপালং ইউনিয়নও আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী এস এম ছৈয়দ আলম নেতা কর্মীদের তোপের মূখে পড়ায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজানের গণ জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ ইউনিয়নে বিএনপির মনোনীত একক প্রার্থী হিসাবে মাঠে ময়দানে কাজ করছে নুরুল আমিন চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*