রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সেবা দিয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইন্স : পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন

us-bangla.....1_BG20160515164237ঢাকা অফিস :
মাঝখানে বাংলাদেশ বিমানের অবস্থা এমনই করুণ ছিল যে, দুই বছর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এ সময় বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো যে সেবা দিয়েছে তার জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

তিনি বলেন, এছাড়াও বিগত দিনগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় যেভাবে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো সেবা দিয়ে সাহায্য করেছে, সেখানেও প্রশংসা করি।

রোববার (১৫ মে) হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ঢাকা-কাঠমান্ডু ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন রাশেদ খান মেনন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘বিমান যাত্রার ক্ষেত্রে, বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগের সাফল্য লক্ষ্য করেছি। এবং এ সাফল্যের ক্ষেত্রে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স নিশ্চিতভাবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে’।

‘আমাদের জানা মতে, অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী পরিবহনে টাইম শিডিউল রক্ষা করতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৯৮ শতাংশ সফল। শুধু তাই নয়, অভ্যন্তরীণ রুটে সবচেয়ে বেশি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স’।

তিনি বলেন, ‘সেই এয়ারলাইন্স আজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আর্ন্তজাতিক সীমানায় পাখা বিস্তার করেছে। এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের এবং অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য’।

এজন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানান তিনি।

‘একটা সময় ছিল, যখন আমাদের বিমান পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ন্যাশনাল ফ্লাইট ক্যারিয়ার বিমানের মাধ্যমেই পরিচালনা করতাম। সেক্ষেত্রে অনেক সময়ই আমরা একটু সঙ্কটের মধ্যে পড়ে গিয়েছি। কারণ, বিমানের সেই বহর এবং সেগুলো পুরনো হয়ে গিয়েছিল’- বলেন মেনন।

‘অভ্যন্তরীণ রুটে আমাদের বিমানের যাত্রাকে বন্ধ রাখতে হয়েছে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর। সেই সময়কালে আমরা এখানে দেখেছি, আমাদের প্রাইভেট এয়ারলাইন্স তারা বিশেষভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সরকারকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছে’।

‘বিশেষ করে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা আমাদের দেশে গত বছরগুলোতে কিছু ছিল, সেই সময়ে এই বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো তাদের সেবা দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছে। সেই কারণে আমাদের এখানে যারা বেসরকারি বিমান চালু রেখেছে, পরিচালনা করছে, তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সরকারের পক্ষ থেকে’।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি, এই বাজেটে এয়ারলাইন্সের পরিচালনা নিয়ে বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। যেগুলোর সমাধান প্রয়োজন। যার মধ্যে একটি রয়েছে ল্যান্ডিং এবং পার্কিংয়ের জন্যে যে চার্জ করা হয়, সেটা আর্ন্তজাতিক তুলনায় বেশি’।

‘তার চেয়েও যে সমস্যাটি বেশি রয়েছ, সেটি হচ্ছে হ্যাঙ্গার। হ্যাঙ্গার নেই। আমি সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যানের কাছে এ সমস্যার কথা তুলে ধরেছি। আমরা যখন সাজানোর জন্যে বিমানবন্দরকে বাড়াতে চাচ্ছি, সেই সময় যেন এই হ্যাঙ্গারের বিষয়টির সমাধান করতে পারি, তার জন্যে আমি বলেছি। আমি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং অন্যান্য বেসরকারি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানাচ্ছি’- বলেন মন্ত্রী।

‘একই সঙ্গে সিভিল এভিয়েশনকে বলছি, আমাদের বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রী পরিবহনে যে অবদান রাখছে, তার জন্যে তাদেরকেও সুযোগ প্রদান করতে হবে’।

একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বরিশালের ছেলে। বরিশালে আমাদের রেললাইন নেই, আমাদের স্বাভাবিক যাত্রা লঞ্চে। স্বাভাবিকভাবেই সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে সকালে বরিশাল যাওয়া আরামপ্রদ ব্যাপার। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, আমি যখন বরিশালে যেতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে অনুরোধ করলাম, আপনারা বরিশালে ফ্লাইট চালু করেন, বিমানকে অনুরোধ করলাম, অন্যদের বললাম, তখন একটা সংশয় ছিল, যাত্রী পাবে কি-না!’

‘এখন বরিশাল থেকে আমাদের বন্ধুরা প্রায়ই জানান, আমাদের এখানে আরো বেশি ফ্লাইট দিতে হবে। অর্থাৎ যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে’।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ‘উড়ছি বিজয়ের লক্ষ্য’ নিয়ে ঢাকা-কাঠমান্ডুর বাইরেও কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুরে ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে। মন্ত্রী এসব ফ্লাইটের সঙ্গে ঢাকা-কাঠমান্ডু ফ্লাইটের শুভকামনা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গনি চৌধুরী, ঢাকায় নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনিয়েট পিয়েরি লারামি প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*