আইপিএল নিয়ে চলছে জমজমাট জুয়া

47ca2f0db25e438f815cdfd4a05d9f22_1স্টাফ রিপোর্টার :: জেলার বিভিন্ন স্থানে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ারলীগ (আইপিএল) নিয়ে চলছে জমজমাট জুয়া। প্রতিদিন ম্যাচ প্রতি লাখ লাখ টাকা জুয়া ধরছে বাজিকররা। শুধু শহরেই দৈনিক ৫০ লাখ টাকা বাজি ধরা হয় এ আসরের ম্যাচকে ঘিরে। জুয়ায় নগদ টাকা ছাড়াও স্বর্ণলংকার, ল্যাপটপ, মোবাইল সেট, মোটর সাইকেল, জমিসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে বাজি ধরা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ম্যাচের পাশাপাশি ওভার ও বল প্রতিও জুয়ার পরিধি রয়েছে। জুয়ার আসরে বাজিকরদের সাথে জড়িয়ে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবি ব্যবসায়ী ও কর্মচারিরা। পেশাদার বাজিকরদের রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের আওতায় কৌশলে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করা হচ্ছে। এ জুয়ার টাকা যোগাতে অনেকে জড়িয়ে পড়ছে চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধে। জুয়াড়িরা টাকা ধার-দেনা করেছে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে। পরে ওই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সৃষ্টি হচ্ছে কলত এবং নানা বিশৃংখলা। অনেকে টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি বছর আইপিএল শুরু হলে জুয়াড়িদের মহা মিলন মেলা বসে। আইপিএল মানে তাদের কাছে অল্প সময়ে কালো টাকা আয়ের অপার সুযোগ। প্রতিদিন দু’দলের খেলার মধ্যে জুয়াড়িদের ভাষায় দুর্বল দলকে নিচে ও শক্তিশালী টিমকে উপরে রাখা হয়। এরপর নির্ধারিত হয় ৫০০ থেকে ১ লাখ ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে বাজি। কেউ নিচের দল নিলে তাকে অতিরিক্ত লাভের অফার করা হয়। মানে তার দল জয় পেলে ১ হাজার টাকায় ১৩শ- থেকে ১৫শ’ টাকা লাভ লুপে নেয়া যাবে। আর উপরের দল নিলে বাজির সমান সমান টাকা অর্থাৎ ১ হাজার টাকায় লাভ সহ ২ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। কলকাতা নাইট রাইটার্স, গুজরাট লাইনস, হায়দ্রাবাদ, দিল্লি, মোম্বাই ইন্ডিয়ানস ও রয়েল চ্যালেঞ্জার বাঙ্গালোর জুয়াড়িদের কাছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দল। ম্যাচের পাওয়ার প্লেতে কত রান হবে, ৫-১০ ওভারে কত রান হবে, লাস্ট ৫ ওভারে কত রান আসবে, খেলায় কে কতটি উইকেট পাবে, কে কত রান করবে নিয়েও বাজিতে মেতে উঠছে জুয়াড়িরা। আইপিএলের ক্রিকেট নিয়ে জুয়া খেলে অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বড় বাজারের রতন ধর (২৭) নামে এক ব্যবসায়ীর। তিনি ধার দেনা করে আইপিএলের ক্রিকেটে বাজি ধরেছে। ওই টাকা পরিশোধ করতে না পেরে তিনি বর্তমানে পলাতক। মোরশেদ রামু রাজারকুল এলাকার মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে। তিনি শহরের আপন টাওয়ারে রামু ফ্যাশন নামে একটি বিপণী বিতানের মালিক। গত ৩ বছর যাবত ক্রিকেট নিয়ে জুয়া খেলে আসছে। গেল আইপিএল ক্রিকেট চলাকালিন বাজি ধরেছিল প্রায় ৮ লক্ষ টাকারও বেশি। নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও এসব টাকা যোগাড় করেছে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে। এমনকি জুয়া খেলার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ পর্যন্ত নিয়েছে। ওই টাকা পরিশোধ করতে না পেরে গত ২০ দিন আগে পরিবার-পরিজন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

বার্মিজ স্কুল রোডের হাকিম, বেলাল, বাদল নামের কয়েকজন কলেজ ছাত্র জানায়, ক্রিকেটে বাজি ধরার কারনে তাদের জীবনে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তারা নগদ টাকা, মোবাইল ও ব্যবহৃত ল্যাপটপ হারিয়েছে। তারা আইপিএল ক্রিকেটে বাজি ধরতে দিয়ে বাবা ও মায়ের কাছ থেকে পর্যন্ত টাকা চুরি করেছে। বিষয়টি তাদের পরিবার জানতে পারায় অনেক ক্ষতি হয়েছে।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা  জানান, ক্রিকেট খেলা নিয়ে জুয়া কোনভাবেই কাম্য নয়। আর এসবের কোন অর্থ নেই। এটি অনেকটা ভাগ্যের উপর নির্ভর। কারন খেলোয়াড় নিজেই জানেন না তিনি আসলে কতটুকু খেলতে পারবেন। এর ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নানা ধরনের বিশৃংখলতা। এতে বেশি ক্ষতি হচ্ছে যুব সমাজ। তাই জুয়াড়িদের চিহ্নিত করে বন্ধ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসলাম উদ্দিন জানান, এই ধরনের কোন অভিযোগ তিনি পাননি। তবে আইপিএল নিয়ে জুয়া চলছে তা শুনেছেন। বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে জুয়ার আসরে অভিযানসহ চিহ্নিত জুয়াড়িদের তালিকা করে আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*