রাজাখালীতে কালভার্ট বিধ্বস্থ হওয়ায় জনদূর্ভোগ চরমে

Pekua_Pic_06-05-16_1স্টাফ রিপোর্টার :: পেকুয়ায় রাজাখালীতে কালভার্ট (ডাবল ব্রিজ) বিধ্বস্থ হওয়ায় জনদূর্ভোগ চরমে উঠেছে। ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়ার সাথে বামলুরপাড়া ও সবুজবাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থা একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত প্রায় ৫মাস পুর্বে লবনবাহি গাড়ির ধাক্কায় রাজাখালীর বামলুরপাড়া পয়েন্টে জনগুরুত্বপুর্ন কালভার্টটি বিধ্বস্থ হয়। এরপর থেকে সবুজবাজারের সাথে পশ্চিম-দক্ষিন রাজাখালী ইউনিয়নের উপকুলবর্তী বিপুল জনগোষ্টির সড়ক যোগাযোগ থেমে গেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) সবুজ বাজার-সুন্দরীপাড়া সড়কের বামলুরপাড়া এলাকায় একটি কালভার্টটি নির্মান করে। বিগত ২০০০সালের দিকে রাজাখালী ইউনিয়নের প্রবাহমান প্রেসিডেন্ট খালের পয়েন্টে যাতায়ত ব্যবস্থা সুগম করতে মুলত কালভার্টটি নির্মিত হয়েছিল। এদিকে গত কয়েক বছর ধরে এলজিইডির মালিকানাধিন সবুজবাজার-সুন্দরীপাড়া সড়কে অতিরিক্ত লবন বোঝাই ট্রাক চলাচল করছিল। এক শ্রেনীর দালাল সিন্ডিকেট সরকারি গ্রামীন সড়কের স্বার্থের পরিপন্থি নির্দেশ অমান্য করে ভারি যানবাহন চলাচলের মহোৎসবে মাতে।

স্থানীয়রা জানান, গত পাঁচ মাস আগে লবন ব্যবসায়ীরা প্রায় ২৫টনের অধিক লবন বোঝাই করে ট্রাক কালভার্টের উপর দিয়ে পারাপারের সময় বিধ্বস্থ হয়। এরপর থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ৬/৭টি গ্রামের বাসিন্দাদের।

উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য ডাঃ শফি উল্লাহ, ইউপি সদস্য ছাদেকা বেগম জানান, কালভার্টটি রাজাখালী ইউনিয়নের আন্তঃযোগাযোগ’র অন্যতম মাধ্যম। কালভার্টটি বিধ্বস্থ হওয়ায় বিরুপ প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতে। সবুজ বাজারের সাথে সুন্দরীপাড়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা থেমে যাওয়ায় লবন ও সামুদ্রিক উৎস থেকে আহরিত মাছ, শুটকিসহ গুরুত্বপুর্ণ পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পড়–য়া শিক্ষার্থীরাও যাতাযাদের ক্ষেত্রে চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার(৬মে) সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, কালভার্টের বিপুল অংশ নিচে প্রবাহমান খালে ধেবে গেছে।

রাজাখালী ইউপির চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর জানান, কালভার্টটি বিধ্বস্থ হওয়ায় উক্ত এলাকার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। মানুষ কালভার্টটির কারনে যোগাযোগ বন্ধ প্রায়। আমি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে দ্রুত সময়ে কালভার্টটির সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের জন্য দাবি করছি।

পেকুয়া এলজিইডি’র উপ সহকারি প্রকৌশলী হারু কুমার পাল জানান, কালভার্টটির মেরামতের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চুড়ান্ত হয়েছে। শীঘ্রই বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা হবে।

পেকুয়ায় আওয়ামীলীগ নেতাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

পেকুয়ায় বিরোধীয় স্বত্ব দখলে নিতে আওয়ামীলীগ নেতাসহ নিরহ লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘঠেছে, গত ২মে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের পালাকাটা গ্রামে। এ ঘটনার সুষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভুগীরা সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সু’দৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, স্থানীয় মছল উদ্দিনের পুত্র ছরওয়ার আলম গংয়ের মালিকানাধীন খালি জায়গা নিয়ে একই এলাকার হাজ¦ী আবদু মতলব এর ছেলে মৌং আব্দু ছত্তারের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে একপর্যায়ে দু’পরিবারের মধ্যে ওই স্বত্বের মালিকানা বিরোধ দেখা দেয়। এনিয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ ও গ্রাম আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা অভিযোগ দায়ের হলে দীর্ঘ শালিষী বৈঠকেও বসে উভয় পক্ষ। কোন সুরেহা না পেয়ে পেকুয়া মৌজা বিএ ৭৬,৭৪খতিয়ানের বিরোধীয় জমির সৃজিত খতিয়ান ২২৮৬বিরুদ্ধে ভোগ দখলীয় মালিক ছরওয়ার আলম সহকারী কমিশন(ভূমি) পেকুয়া বরাবরে একটি অপত্তি দায়ের করেন। সরজমিনে তদন্ত পূর্বক পেকুয়া উপজেলা ভুমি অফিসের কানুনগো(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আলমগীর হোসেন এর রায়ে বিরোধীয় স্বত্বের মালিকানা লাভ করেন মোঃ ছরওয়ার আলম। কিন্তু বিরোধীয় স্বত্বে রায়ের বিরোদ্ধে মৌং আব্দু চত্তার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত(রাজস্ব) বরাবরে বিএস ৭৪ ও ৭৬খতিয়ানের সহিমহুরী নকল ও রায়ের নতি তলবের আবেদন দায়ের করেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মৌং আব্দু ছত্তার গং দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীয় স্বত্বটি জবর দখলের পাঁয়তারায় মেতে উঠেন।

এদিকে গত ২৪এপ্রিল মৌলভী আব্দু ছত্তারকে একই এলাকার মৌলভী এলাহাদাদ এর বাড়ির সামনে পূর্ব পাশের্^ গতিরোধ করে হত্যার চেষ্টা বলে একটি মিথ্যা অভিযোগ তুলেন। হাসপাতালে ভর্তি দেখিয়ে হাসপাতালের দায়িত্বরত ডাক্তারকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ভুয়া চিকিৎসার কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন এলাকার চিহ্নিত ভমিদস্যু মৌং আব্দু ছত্তার। এরই প্রেক্ষিতে মৌলভী আব্দু ছত্তার বাদী হয়ে গত ২মে চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মিত্যা মামলা দায়ের করনে। যার মামলা নং-সিআর ৪৪৬/১৬। ওই মামলায় এলাকার অসহায় নিরহ ও দিন মজুর এবং রাজাখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ছরওয়ার আলম সহ ৭জনের নাম উল্ল্যেখ করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি সুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য পেকুয়া থানার ওসি বরাবরে প্রেরণ করেছে আদালত। এনিয়ে হয়রানী মুলক গ্রেপ্তার আশংকায় মামলার এজাহার নামীয় বিরোধীয় স্বত্বের প্রকৃত দালিলিক মালিক ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ ছরওয়ার আলমসহ অপরাপর আসামীরা ঘর ছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এদিকে তাদের পারিবারের সদস্যরা স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাত করে তাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধীয় স্বত্ব জবর দখল চেষ্টা ও গ্রেপ্তার হয়রানীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ঘঠনার সুষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায় বিচার প্রার্থনা করে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সু’দৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এব্যাপারে পেকুয়া থানার ওসি জিয়া মোঃ মোস্তাফিজ ভুঁইয়া জানান, এ মামলার কোন কাগজ থানায় আসেনি। মামলা রুজুর সত্যতা ও কাগজপত্র পাওয়া গেলে, সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*