চৌফলদন্ডী গোমাতলী উপকূলে লবণের বাম্পার উৎপাদন

Image-Soltঈদগাঁও সংবাদদাতা :: কক্সবাজার সদর উপজেলার উপকূলীয় এলাকা চৌফলদন্ডী ও গোমাতলীতে চাষীরা এখন দিনরাত লবণ উৎপাদনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে লবণের দাম কম থাকলেও বর্তমানে আবার লবণের দাম বাড়ায় এবার চাষীরা অনেক খুশি এবং তাদের মাঝে উৎপাদনের আগ্রহও দেখা গেছে অনেক বেশি। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে চাষীরা প্রতিমণ লবণ ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি করছে এবার। বিগত বছরগুলোতে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে লবণ আমদানী করায় হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়েছিল তাদের। কিন্তু এবছর পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে লবণ আমদানী হয়নি। ফলে দেশী লবণের দাম বেশি হওয়ায় লবণ চাষীরা বিগত বছরের তুলনায় এবার প্রচুর পরিমাণ লবণ চাষ এবং উৎপাদনের কাজে শ্রম দিচ্ছে দিনরাত। বিশেষ করে আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে পলিথিনের সাহায্যে স্বল্প সময়ে লবণ উৎপাদন করছে চাষীরা। গোমাতলী এলাকার জাবের আহমদ নামে এক লবণ চাষী বলেন, এখনো পর্যন্ত আকাশের অবস্থা ভাল। মাঝে মাঝে হঠাৎ আকাশে মেঘ জমলেই চাষীদের প্রাণের পানিও শুকিয়ে যায়। মেঘ জমে যায় মনের কোণে। এ মুহুর্তে বৃষ্টি হলে হাজারো চাষীর হাসিমুখ মলিন হয়ে যাবে। লোকসানে পড়বে লাখ লাখ টাকা। দেখা গেছে লবণ মাঠে বিছানো পলিথিন ছাড়াও প্রত্যেক চাষীর অতিরিক্ত পলিথিন সংগ্রহ করা আছে। আকাশে মেঘ হওয়ার সাথে সাথে লবণসহ পলিথিনগুলো জড়ো করে রাখে তারা। এতে করে তাদের কষ্টে ফলানো লবণ রক্ষা করা যায়। শত শত মণ লবণ গর্তে ফেলতেও দেখা গেছে। শেষ পর্যন্ত যদি এ দাম অব্যাহত থাকে এ উপকূলীয় কয়েক হাজার লবণ চাষী তাদের পরিশ্রমের সুফল পাবে বলে আশা করেন তারা। বিগত বছরগুলিতে প্রতি কানি জমি ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা দিয়ে নিলেও উৎপাদিত লবণ বিক্রি করে জমির টাকা পূরণ করতে পারেনি। বর্তমান সরকার লবণচাষীদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য বিদেশ থেকে লবণ আমদানী বন্ধ করে দেওয়ায় চাষীরা তাদের লোকসানকৃত টাকা আবার ফিরে পাচ্ছে। চৌফলদন্ডী, ভারুয়াখালী, গোমাতলী, নাইপের ঘোনায় উৎপাদিত লবণগুলো বিশেষ করে ইসলামপুর লবণ শিল্প এলাকা ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন তাদের নিজস্ব তদারকির মাধ্যমে লবণ উৎপাদন ও রপ্তানী করে থাকে। সদরের এ উপকূলীয় এলাকায় যে লবণ উৎপাদন হয় তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে দেশের চাহিদা পূরণ করে বাহিরেও রপ্তানী করতে পারবে। বর্তমানে এসব এলাকার প্রায় ১০ হাজার লবণচাষী তাদের ন্যায্য মুল্য ও পরিশ্রমের যথাযথ মুল্য পাবে এ আশায় লবণ মাঠে রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত চাষীরা তাদের লবণের ন্যায্যমূল্য স্বার্থ সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এ প্রত্যাশা সরকারের কাছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*