ঈদগাঁওতে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজী : ঘন্টায় ৪৫ বার

loadshedding_3স্টাফ রিপোর্টার :
জেলার বাণিজ্যিক রাজধানী নামে খ্যাত বৃহত্তর ঈদগাঁওবাসী বিদ্যুতের ভেল্কিবাজীতে অতিষ্ট হয়ে ফুঁসে উঠেছে। ফলে যে কোন মুহুর্তে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে পারে। সরেজমিনে গোটা ঈদগাঁও ঘুরে দেখা যায়, বিগত ১ মাস ধরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ঈদগাঁওবাসীর সাথে প্রতারণা করে আসছে। একদিকে ঘন্টায় ৪৫ বারের মত লোডশেডিং করে আসলেও কিন্তু প্রতি মাসের শেষে বিলে দেখা যায়, মিটার রিডিং অন্যমাসের চেয়ে এ মাসেই বেশি। অথচ সারাদিনের ২৪ ঘন্টায় একটানা এক ঘন্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে দেশের বৃহত্তম শিল্প নগরী ইসলামপুরের লবণ মিল ও বৃহত্তর ঈদগাঁওর মিল-কারখানা প্রায় বন্ধের পথে। ফলে মিল-কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিকরা আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে ঈদগাঁও বাজারের সচেতন ব্যবসায়ীরা পল্লী বিদ্যুতের ভেল্কিবাজীতে অতিষ্ট হয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার মুহুর্তে কথিত পল্লী বিদ্যুতের জিএম পুলিশের মাধ্যমে ঘন্টায় একাধিকবার লোডশেডিং করবে না শর্ত দিয়ে আন্দোলন থামিয়ে রাখে। গত সপ্তাহে দেখা যায়, ঘন্টায় অর্ধশতাধিকবার লোডশেডিং করতে থাকে। গতকাল ২৬ এপ্রিল মঙ্গলবার ঘন্টায় ৪৫ বার লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটে। এক মিনিটের মাথায় বিদ্যুৎ আসলেও পরবর্তী ৩০ সেকেণ্ট হতে না হতেই আবার চলে যায়। এভাবে পল্লী বিদ্যুতের ভেল্কিবাজীতে গোটা ঈদগাঁওবাসী ফোঁসে উঠেছে। গত শীত মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই পল্লী বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের প্রতিযোগিতায় নামে। অথচ বর্তমান সরকার জনগণের সুবিধার্থে প্রত্যন্ত গ্রামে-গঞ্জে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে আসলেও কাজের বেলায় শূণ্যের কোঠায়। ফলে ঈদগাঁওর বেকার সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইসলামপুরের খুইল্যা মিয়া নামের এক লবণ শ্রমিক জানান, গত সপ্তাহে মাত্র ১৬ ঘন্টা লবণ মিলে কাজ করতে পেরেছি। যার কারণ স্বরূপ ছেলে মেয়ে ও পরিবার নিয়ে সপ্তাহে একাধিকবার উপোষ থাকতে হয়েছে। এভাবে লোডশেডিং অব্যাহত থাকলে গোটা পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। ঈদগাঁও বাসস্টেশনস্থ ছলিম নামের এক রিক্সা চালক জানান, সারাদিন রিক্সা চালিয়ে রাতের বেলায় ভাড়া বাসায় থেকেও ঘুমাতে পারছে না। সারা রাত কয়েক মিনিট বিদ্যুৎ আসলেও তাও সেকেন্ড প্রতি। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ একটানা লোডশেডিং করলে তাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু ঘন্টায় অর্ধশতাধিকবার লোডশেডিং কোন অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। বাসস্টেশনের কাঁচামাল ব্যবসায়ী রফিক জানান, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ঘন ঘন লোডশেডিং করলেও মাসের শেষে বিল দেখা যায় অন্যমাসের চেয়ে দ্বিগুণ। কারণ স্বরূপ জানতে চাইলে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছেন লোডশেডিং করলে নাকি মিটার রিডিং বেড়ে যায়। স্থানীয়দের দাবী, ঈদগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ ইনচার্জের কারিশমায় ঈদগাঁওবাসীর দুর্ভোগ। ঈদগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ ইনচার্জের সাথে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি লোডশেডিংগুলি ঈদগাঁও থেকে হয় না। একটানা লোডশেডিং না করে ঘন্টায় অর্ধশতাধিক বার কেন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি কলটি কেটে দেন। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে বড় ধরণের অঘটন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*