চট্টগ্রাম জেলা জজশীপ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ঃ বিচারপতি মইনুল

chitta_5598গত ১০ এপ্রিল বিকালে চট্টগ্রাম জেলা জজশীপের আয়োজনে জজশীপের সম্মেলন কক্ষে জেলা ও দায়রা জজের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মচারীদের সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ২৪ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১১ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে চট্টগ্রামের সকল পর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সকল পর্যায়ের বিচারকগণ, ম্যাজিস্ট্রেটগণ ও জজশীপের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফেরদৌস আরা স্বাগত বক্তব্যে বলেন বিচারক স্বল্পতা সত্ত্বেও ২০১৫ সালে জেলা ও দায়রা জজ মোঃ নূরুল হুদার গৃহীত চট্টগ্রাম জেলা জজশীপের “ কেস ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট” এর অওতায় ২০১৫ সালে ৭১৩ টি দেওয়ানী মামলা সহ মোট ৩১,০১৪ টি দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা নিস্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। যেখানে ২০১৪ সালে নিস্পত্তি হয়েছে ১২,৩৪৩ টি মামলা। এছাড়া ২০১৪ সালে প্রসেস জারী হয়েছে ৩৩,০৫৬ টি, তা ২০১৫ সালে এসে দাঁড়ায় ৬৭,৪৮৪ টিতে। ২০১৪ সালে নকল ফলিও দেয়া হয়েছে ১,০৮,০৬৬  টি, ২০১৫ সালে নকল ফলিওর সংখ্যা দাঁড়ায় ১,৭৪,১৩২ টিতে। ২০১৪ সালে ৪ কোটি ২৫ লক্ষ ৬২ হাজার ৯২৯ টাকা রাজস্ব আদায় হলেও ২০১৫ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকায়। যা থেকে কর্মরত বিচারকগণের ২ বছরের বেতন দেওয় সম্ভব। উল্লেখিত প্রজেক্ট এর আওতায় রেকর্ড রুমের সংস্কারসহ ২৯,১৫৬ টি নথি বিনষ্ট করা হয়েছে এবং ডিজিটাল লোকেশন ম্যাপ তৈরী করা হয়েছে। যা অন্যান্য জেলায় মডেল হিসেবে গ্রহণ করেছে। ২০১৬ সালে এই প্রজেক্টের অধিনে পুরাতন ৩৩৪ টি মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বিচারকদের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এই প্রজেক্টটি অভাবনীয় সফলতা লাভ করেছে। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান জেলা ও দায়রা জজ যোগদানের পর তার স্ব-উদ্ভবিত প্রজেক্টের মাধ্যমে অত্র জজশীপে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান গতি এসেছে। তিনি আরো বলেন, ইতিপূর্বে এত্র জজশীপে এত বড় পরিসরে কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়নি। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মচারীগণ আরো দক্ষতার সাথে বিচার কাজে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন যেকোন কর্মক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরী। প্রশিক্ষণ ছাড়া মেধাবী কর্মচারীও দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারে না। দক্ষ কর্মচারী বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমান জেলা জজ নুরুল হুদার সুযোগ্য নেতৃত্বে চট্টগ্রাম জজশীপি বাংলাদেশের অন্যতম অনুকরণীয় জজশীপে পরিণত হয়েছে এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টও জেলা জজের গৃহীত এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং অন্যান্য জজশীপকেও তিনি এই কর্মপন্থা অনুসরণের আহবান জানান।  পরিশেষে সনদপত্র বিতরণী অনুষ্ঠানের সভাপতি  জেলা ও দায়রা জজ মো: নূরুল হুদা তার বক্তব্যে বলেন, টোটাল জাস্টিস ডেলিভারী সিস্টেমের অংশ হিসেবে কর্মচারী ব্যবস্থাপনা ও তাদের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে এবং উক্তরূপ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হলো চৌকস কর্মচারী সৃষ্টি করা যারা আগামী দিনের ন্যায় বিচারে সহায়ক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। পরিশেষে তিনি দেশপ্রেম ও দেশের মানুষের প্রতি কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করার আহবান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*