আবদুল গাফ্ফার মাহমুদের কলাম

12439430_1691318824473604_4302016380041487977_n-300x160
সৌদিয়া পরিবহনের বাসটি রাত সাড়ে ১২ টায় কক্সবাজার বাস টার্মিনালে এসে থামলো। এটি শহারের একটু বাইরে। আমরা সবাই গাড়ী থেকে নেমে পড়লাম। ঢাকা থেকে যাত্রার পরই বন্ধু মামা অর্থ্যাৎ অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম গুন্দু মোবাইল ফোনে বার বার খবর নিচ্ছিলেন আমরা কখন কোথায় এসেছি। বাস থেকে নামার পরই নাসিম আনোার গুন্দু মামাকে জানিয়ে দিলেন, আমরা এসে গেছি। নাসিমের সঙ্গেই গুন্দু মামার পূর্ব পরিচয় ও ঘনিষ্টতা। নাসিমই তাকে মামা বলে ডাকে। নাসিমের কাছে গুন্দু মামার প্রশংসা শুনতে শুনতেই আমরা কক্সবাজারে পৌছে গেছি। আমি, মিজান ও মজিবর কারো সঙ্গে গুন্দু মামার পরিচয় পর্যন্ত নেই। যাহোক আমার একটি সিএনজি চালিত অটোতে চেপে কক্সবাজার শহরে পৌঁছে গেলাম মাত্র ১৫ মিনিটে। গুন্দু মামা ৪/৫ জন সঙ্গী নিয়ে দাড়িঁয়ে আছে সুগন্দা পয়েন্টে মেরিন টাওয়ারের সামনে। আমাদের বহনকারী অটো গিয়ে দাড়াঁলো মেরিন টাওয়ারের সামনে। একে একে সবাই নামলাম গুন্দু মামা প্রত্যেকের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে অভ্যার্থনা জানালেন। আমরা তিনজন গুন্দু মামার সঙ্গে পরিচিত হলাম স্বশরীরে । যদিও ঢাকা থেকেই টেলিফোনিক পরিচয় হয়ে গেছে। কাল বিলম্ব না করে গুন্দু মামা আমাদের সঙ্গে নিয়ে মেরিন টাওয়ারের পাশের ভবন আলফা ডয়েড-এ নিয়ে গেলেন। আমার লিফটে চেপে ৮ম তলায় উঠে গেলাম।এই ৮ম তলার একটি ফ্ল্যাটে আমাদের চারজনের থাকার ব্যবস্থা করেছেন গুন্দু মামা। সু-সজ্জিত এই ফ্ল্যাটটির মালিক গুন্দু মামার চাচাতো ভগ্নিপতি। ফ্ল্যাটে দু’টি বেড রুম, দু’টি বাথ, কিচেন,ড্রয়িং,ডাইনিং সবই রয়েছে। আছে ফ্রিজ,টেলিভিশন সবই। গুন্দু মামা ফ্রিজ খুলে বললেন এখানে আপনাদের জন্য পানাহারের ব্যবস্থা রয়েছে। আমাকে ইকটু যেতে হবে। আমার শ্যালকের বিয়ে। আপনাদের মামী অপেক্ষা করছে। যাহোক রাত দেড়টা। গুন্দু মামা সঙ্গীদের নিয়ে বিদায় নিলেন। নাসিমের আবার তর সয়না। সে কাপড় চোপড় না ছেড়েই বসে গেল। গলাস রেডি। ওয়ান টাইম ইউস প্লাস্টিকের গ্লাস। গুন্দু মামাই ব্যবস্থা করে গেছেন। যার যার মতো গ্লাসে চুমুক দিতে লাগলাম। মিজান একটু সুফী টাইপের। সে আবার এসবে নেই। খানিক বদেই দরজায় কড়া নাড়া। আবার কলবেলও বেজে উঠলো। কি ব্যাপার এত রাতে আবার কে এলো। নাসিম উঠে গিয়ে দরজা খুললো গুন্দু স্যার পাটিয়েছেন। সহাস্যে প্যাকেট ভর্তি নেটব্যাগ নিয়ে ঢুকলো এক যুবক। গুন্দু মামার ওকালতি ব্যবসার সহকর্মী। বললো গুন্দু স্যার আপনাদের জন্য খাবার পাটিয়েছেন। গরম গরম বিফ খিচুড়ি। আমরা সবাই অবশ্য ক্ষুদার্ত ছিলাম। প্যাকেটগুলো রেখেই যুবকটি যথারীতি প্রস্থান করলো। রাত দু’টো। আমার খিচুড়ি খেয়ে উদোরপূর্তি করলাম। রাত তিনটায় সবাই ঘুমোতে গেলাম। আমি আর মিজান এক সঙ্গে। আরেকটি কক্ষে নাসিম আর মজিবর। অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম গুন্দু। আতিথেয়তা াার ব্যবহারে যার কোন তুলনা হয়না। আমি অন্তত এমন নিবেদিত প্রাণ অতিথি পরায়ন কোন ব্যাক্তির দেখা অদ্যবধি পাইনি। ভদ্রলোক কক্সবাজার জজকোটের একজন সিনিয়র উকিল। অওয়ামীলীগ নেতা। ছাত্রলীগের জেলা সভাপতি ও সেক্রেটারী ছিলেন। আওয়শীলীগেরও কমিটিতে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ব্যাক্তিগতভাবে চিনেন। গত কাউন্সিলে জেলার সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন। কথা ছিলো কাউন্সিলরদের গোপন ভোটে নির্বাচনহবে। নেতৃবৃন্দ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সমঝোতা করেছেন। ফলে গুন্দু আর ওই পদে নির্বাচিত হতে পারেননি। পিপি হতে চেয়েছিলেন। তাও হতে পারেননি। একজন বিতর্কিত ব্যাক্তিকে এখনো পর্যন্ত পিপি করে রাখা হয়েছে। এই বিতর্কিত ব্যাক্তিটি রাজনৈতিক বিবেচনায় একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীর মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছিলেন। মামলা প্রত্যাহারও করা হয়েছিলো। এ নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠে। পত্র-পত্রিকায় সংবাদ ছাপানো হয়। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন সংসদে বিবৃতি দিয়ে ওই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা পুনরুজ্জীবিত করার কথা জানান। কিন্তু ওই পিপির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পরবর্তীতে আইনমন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু কক্সবাজারের সেই বিতর্কিত পিপি এখনো বহাল তবিয়তেই আছেন। এ দেশের রাজনীতির এই চিত্র বহুদিন যাবতই মানুষ দেখে আসছে। যখন কোন দল ক্ষমতায় যায় তখন ক’ট কৌশলে সুবিধাভোগীরাই সামনের কাতারে চলে আসে। দলের দীর্ঘদিনে ত্যাগী নেতাকর্মীরা থেকে যায় দৃষ্টির আড়ালে। অবহেলিত এসব নেতা- কর্মীদের মুল্যায়ন কখনোই হয়না। দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা না থাকায় এমনটিই হয়ে থাকে। কবে দলের অভ্যন্তরে সঠিকভাবে গণতন্ত্রের চর্চা হবে তা কেউ জানেনা। বলতেও পারেনা। ফলে যুগ যুগ ধরে সুবিধাভোগীরাই সুবিধা ভোগ করে আসছে। ত্যাগী নেতা-কর্মীরা পড়ে পড়ে মার খাচ্ছে। তবে এসবের অবসান হওয়া উচিত। তা না হলে গণতন্ত্রের গালভরা বুলি গালেই থেকে যাবে। গণতšের চর্চা আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সুদূর পরাহতই থেকে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*