সাবধান ! আমরা কি খাচ্ছি ! লবণেও বিষ

c4a7b1e1df8d8c3b895a0b10f72ae8b6-Salt3বিশেষ রিপোর্ট :
আমরা কি খাচ্ছি ! সবকিছুতেই বিষ ! এতদিন শুনেছি ফলে ফরমালিন, মাছে ফরমালিন, এমনকি শাক-সবজিতেও ফরমালিন। এখন অনুসন্ধানে পাওয়া যাচ্ছে লবণেও বিষ ! ফলমূল, শাক-সবজি এমনকি মাছ না হয় দেখে-শুনে বাছাই করে যতটা সম্ভব খাওয়া যায়। কিন্তু লবণ তো আর বাছাই করে খাওয়ার উপায় নেই। কিংবা লবণ ছাড়া খাওয়ারও কোন উপায় নেই। তরি-তরকারি রান্নার একটি বাধ্যতামূলক উপাদান লবণ। যা কিনা পরিমাণ মত না হলে অর্থাৎ একটু কম হলেও খাওয়া যায় না। কম হলে সবকিছুই ‘বিস্বাদ’ লাগে। হঠাৎ কোন কিছুতে একটু লবণ কম হলে অনেকে আলাদা করে বাড়তি লবণ নিয়ে তবে খান। তা না হলে খেতে পারেন না। এই অতি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যটিও ইদানিং বাজারে বিক্রি হচ্ছে বিষ মিশ্রিত হয়ে। আবার কোন কোন কোম্পানীর পুরো লবণই বিষ। একশ্রেণীর অতি মুনাফালোভী শিল্পপতি নামধারী ব্যক্তি সোডিয়াম সালফেট নামক ঐ বিষ নিজেদের ফ্যাক্টরিতে বাহারী মোড়কে প্যাকেটজাত করে বাজারে ছাড়ছে। আর ভোক্তাগণ বিখ্যাত কোম্পানীর নাম দেখে চমৎকার প্যাকেট বেশীদামে কিনে বাসায় নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোনভাবেই বোঝার উপায় নেই যে, এটি আসলে বিষ ! এটি কোনভাবেই খাওয়ার উপযোগী নয়। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার লবণ ব্যবসায়ী, লবণ মিল মালিক এবং মিল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে এই ভয়াবহ উদ্বেগজনক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সূত্রমতে, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর পটিয়ার ইন্দ্রপুর লবণ শিল্প এলাকায় চানখালী সল্ট মিলে সোডিয়াম সালফেটকে কুকমি সল্ট নাম দিয়ে প্যাকেটজাত করাকালে পুলিশ হাতেনাতে দুইশ’ বস্তা সোডিয়াম সালফেট আটক করে। এ ব্যাপারে পটিয়া থানায় একটি মামলাও হয়েছে।  পুলিশ জানায়, একজন ব্যবসায়ী চানখালী সল্ট মিলটি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত সোডিয়াম সালফেট প্যাকেটজাত করে লবণ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাজারজাত করে আসছিল। খবর পেয়ে ১৪ ডিসেম্বর রাতে বিসিক কর্মকর্তাসহ সহকারী কমিশনার (ভূমি) গৌতম বাড়ৈ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ওইদিন মিলের ম্যানেজারকে গ্রেফতার করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সাথে সাথে মিলটিও সীলগালা করে দেয়া হয়। স্থানীয় লবণ ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা জানান, সোডিয়াম সালফেট টেক্সটাইল ও ডায়িং মিলে কাপড় ও সুতা রং করার কাজে কেমিক্যাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি কোন প্রকারেই খাবারের যোগ্য নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি খেলে মানবদেহে নানাবিধ মরণব্যাধি দেখা দেয়। যেমন হার্টের প্রবলেম হয়, কিডনি, লিভার নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি  ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। বাজারে প্রতিকেজি লবণের মূল্য ৩০-৩৫ টাকা। কিন্তু সোডিয়াম সালফেট এককেজি মাত্র ৮ টাকা। অথচ এক শ্রেণীর অতি মুনাফাখোর এই বিষ লবণ নামে বাজারে বিক্রি করছে। এই সোডিয়াম সালফেট দেখতে অবিকল লবণের মত। স্বাদও লবণের মতই। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কতিপয় মুনাফালোভী মানুষের জীবন বিধ্বংসী খেলায় মেতে উঠেছে বলে খাতুনগঞ্জের একজন বিশিষ্ট লবণ ব্যবসায়ী জানান। কয়েকটি স্বনামধন্য কোম্পানীও এই মরণখেলায় শরীক হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*