ইমেজ সংকট থাকায় বাংলাদেশী নাবিক নিয়োগে জটিলতা ———এমদাদুল হক চৌধুরী

Emdadul Haque Chowdhuryস্টাফ রিপোর্টার :
হক এন্ড সন্স লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক একদাদুল হক চৌধুরী বলেন প্রকৃতপক্ষে বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ সংকট রয়েছে। উপরন্তু একশ্রেণীর রিক্রুটিং এজেন্ট ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে কিছু সংখ্যক নাবিক নিয়োগ করে থাকে। এতে দেশের সুনাম ক্ষুণœ হয়ে থাকে। ফলে যথেষ্ট সুযোগ থাকা সত্বেও আমরা প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক নিয়োগ করতে পারি না। গতকাল রবিবার সকালে নিজস্ব অফিসে লাভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এর এক প্রতিনিধি দলের সাথে মত বিনিময়কালে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। জনাব এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, এক শ্রেণীর বিপদগামী নাবিক না বুঝে জাহাজ থেকে নেমে যায়। তারা অনেক বিপদে পড়ে যায়। অনেকে বাধ্য হয়ে দোকান-পাটে চাকরী করে। অথচ তারা জাহাজে চাকরী করলেও দেড় হাজার ডলার বেতন পায়। কয়েক বছর পর পরীক্ষা দিয়ে প্রমোশন পেলে বেতন হবে তিন হাজার ডলার। ক্যাপ্টেন হয়ে যেতে পারলে বেতন হবে দশ হাজার ডলার। কিন্তু তারা কি কারণে কার বুদ্ধিতে জাহাজ থেকে নেমে যায় তা বোধগম্য না। জনাব এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের ন্যায় নাবিকদের সিডিসি মেশিন রিডেবল করতে পারলে জাল-জালিয়াতি অনেকাংশে কমে যাবে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে আমরা সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন। আশা করি এটিও হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের নাবিকদের ভিসা জটিলতাও চাকরি পাবার ক্ষেত্রে একটি বিরাট অন্তরায়। ভিসার জন্য আবেদন করার নিয়ম রয়েছে কিন্তু ভিসা দিচ্ছে না অথবা সময়মত পাওয়া যাচ্ছে না। ভিসা জটিলতার বিষয়টি নিরসনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। জনাব এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে বর্তমানে ৮ হাজার নাবিক রয়েছে। মিয়ানমারে আছে ৪০ হাজার, ভারতে ৮০ হাজার। ফিলিপাইনে আছে আড়াইলাখ নাবিক । অথচ জটিলতা দূর হলে আমরা বছরে কমপক্ষে নতুন দুই হাজার নাবিক নিয়োগ করতে পারি। তিনি বলেন গত দু’বছরে সরকারীভাবে ট্রেনিং দিয়ে ৪০০ জনের অধিক ক্যাডট ও রেটিং নাবিক বেরিয়েছে। অথচ এদের চাকরির সুযোগ কম ব্যবস্থা আছে। তদুপরি সরকার বেসরকারি খাতে ১৮টি ট্রেনিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু চাকরির ব্যবস্থা কতিপয় ইন্সটিটিউট দিতে পারছে না। লাভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল গাফফার মাহমুদ, মিজানুর রহমান চৌধুরী, নাসিম আনোয়ার ও মজিবুর রহমান খান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*