পাচারের শিকার পরিবারগুলোতে চলছে দূর্ভোগ

human_trafficking_thailand_270975737স্টাফ রিপোর্টার :
জেলায় মানবপাচার শিকার পরিবারগুলোর সরকারি-বেসরকারি ভাবে নেই কোন তালিকা। এসব পরিবারগুলোর উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন কারো স্বামী, সন্তান, কিংবা কারো ভাই অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এতে নিখোঁজদের পরিবার একদিকে কান্নায় বুক ভাসায় ফিরে পাবার আশায়। অন্যদিকে উর্পাজন বন্ধ হয়ে পড়ায় পরিবারগুলোতে চলছে হাহাকার। অর্ধাহারে অনাহারে কষ্টে জীবনযাপন করছে ওইসব পরিবারের সদস্যরা। এমতবস্থায় নিস্বঃহওয়া পরিবারগুলোর আর্থিক সহযোগিতা কামণা করেন করেন।

উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের নমি উদ্দিন সওদাগরের ছেলে নুরুল ইসলাম (২৩), একই গ্রামের মৃত হাকিম আলীর ছেলে ইউছুপ মিয়া (৩৫), জাফর আলমের ছেলে কায়ছার (২২), শাহনা আক্তার শানুর স্বামী মো.মানিক (২৫), নজির আহমদের ছেলে আবু তাহের (২০), আলী আহমদের ছেলে নুরুল আলম (২১)। এরা একে অপরের প্রতিবেশী এবং এলাকায় রাজমিস্ত্রি, শ্রমিক ও দিন মজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। নিজেদের জীবনের ভাগ্য পরিবর্তন করার স্বপ্নে বিভোর হয়ে ওই যুবকরা স্থানীয় মানবপাচারকারী চক্রের গডপাদার নুরুল কবির (যিনি এখনো ৭টি মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী), মৃত আমির হামজার ছেলে মো. ছৈয়দের মাধ্যমে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাইছড়ি বাদামতলী রেজুর মোহনা উপকূল দিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি জমান। কিন্তু গত আট মাসেও তাদের কোনো খোঁজ নেই। বেছে আছে কিনা মরে গেছে সেই খবরও দালালরা দিতে পরছেন না। এভাবেই উখিয়া-টেকনাফ এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুলসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত পরিবার জানে না, বিত্তবৈভবের আশায় দেশ ছাড়া তাদের সন্তান, স্বামী, আর ফিরবে কি-না।

নিখোঁজ হওয়াদের মধ্যে মো: মানিকের স্ত্রী শানু জানান, “স্থানীয় কিছু দালালের খপ্পরে পড়ে বাড়ির গরু, ছাগল ও বসত ভিটার কিছু অংশ বিক্রি করে মালয়েশিয়া উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু এ পর্যন্ত আমার স্বামীর কোন খোঁজ খবর নেই। এখন আমার পরিবারের উপার্জন করার মত আর কেউ নেই। অর্থের অভাবে আমার ছেলে – মেয়েদের লেখা পড়া বন্ধ হয়ে পড়েছে। অর্ধাহারে-অনাহারে আমি মানবতার জীবন যাপন করছি। এখন যদি সরাকার অথবা বেসরকারি কোন সংস্থা আমাদের মত পরিবাগুলোর আর্থিক সাহায্য করত তাহলে অন্তপক্ষে কোন রকম খেয়ে জীবন যাপন করতে পারতাম”

নিখোঁজ আবু তাহেরর মা নুরুচ্ছাপা খাতুন বলেন, তাদের বলা হয়েছে আবু তাহের মালয়েশিয়া কারাগারে আটক রয়েছে। কিন্তু আবু তাহের এর সঙ্গে তারা যোগাযোগ করতে পারেনি। তিনি আশঙ্কা করছে, আবু তাহের আর জীবিত নেই। নুরুচ্ছাপা খাতুন আরো জানিয়েছেন, তার ছেলেকে বাড়ি বন্দক দিয়ে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া পাঠিয়ে ছিলেন। টাকা শোধ করতে না পারয় বাড়িটা পর্যন্ত ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এরক আর্তনাদ শানু, নুরুচ্ছাপার মত পাচারের শিকার হওয়া পত্যেক পরিবারের।

এদিকে এসব স্বজনদের এখনও একটা চাওয়া, তাদের স্বামী সন্তানকে ফিরে পাওয়া। তাছাড়া যেসব পরিবাগুলি স্বর্বশান্ত হয়েছে তারা তিন বেলা অন্তত পক্ষে বেছে থাকার জন্য সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে আর্থিক সহযোগীতা পাওয়া। তাছাড়া যে সব দালালরা তাদের সর্বশান্ত করেছে এবং একাদিক মামলা ওয়ারেন্ট নিয়ে এলাকা প্রাকশ্যে চলা ফেরা করছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত শাস্তি দেওয়া।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বঙ্গোপসাগর উপকূল দিয়ে ট্রলারযোগে স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর অনাহারে অর্ধাহারে থাকা লোকজনকে বস্তাবন্দী করে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এতে অনেকে সাগরে মৃত্যু অনাহারে-অর্ধাহারে বনে বন্দী ও জেলজীবনে রয়েছে। আর হতভাগ্য অনেককেই আরও টাকার জন্য থাইল্যান্ডের গভীর জঙ্গলে রেখে নির্যাতন চালাচ্ছে।

উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মানবপাচাররোধ কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদসহ অন্যান্য সদস্যরা জানান, মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন কররাই তারা অনেক মামলার এবং নানা মূখী হয়রানীর শিকার হয়েছেন। পাচারকারীরা নিজেদের পথ পরিষ্কার করতে এসব মামলা করছেন। এসব অপরাধমূল কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্বে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। যে সব পরিবারগুলো পাচারের শিকার হয়ে স্বর্বশান্ত হয়েছে সরকার কিংবা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা তাদের চিহ্নিত করে আর্থিক সহযোগিতা করার দাবী জানিয়েছেন।

তারা আরো জানান, স্থানীয় মানাবপাচারকারীরা এখন গাঁ ঢাকা দিয়েছে। পাচারকারীরা যে বোট গুলি নিয়ে মানবপাচার করত সেগুলি দিয়ে এখন সাগর পথে বড় বড় ইয়াবার চালান নিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে সাগর পথে ইয়াবার পাচার ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন।

এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো: আলী হোছেন জানান, “বিষয়টা উড়িয়ে দেওয়ারমত নয়। যেসব পরিবারগুলো সর্বশান্ত হয়ে পড়ছে সরকার চাইলে তাদের আর্থিক সহযোগিতা ব্যবস্থা করতে পারে। তবে এই ধরনের কোন কার্যক্রম সরকার এখনো চালু করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*